বাংলার ভোট মানেই টানটান উত্তেজনা, আর সেই উত্তেজনার পারদ এবার স্পর্শ করেছে এক অনন্য উচ্চতাকে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোট ২৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) মোতায়েন করার। সংখ্যার বিচারে এটি কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি ভারতের যেকোনো রাজ্যের নির্বাচনে মোতায়েন করা বাহিনীর মধ্যে সর্বকালীন রেকর্ড। কিন্তু এই বিশাল সংখ্যক সেনার উপস্থিতি কি কেবলই একটি শান্তিপূর্ণ ভোটের গ্যারান্টি, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো বড় আর্থ-সামাজিক এবং রাজনৈতিক ইঙ্গিত?
নিরাপত্তার নতুন সমীকরণ: প্রতি বুথে কতজন?
গত ২০২১ সালের নির্বাচনে রাজ্যে বাহিনীর সংখ্যা ছিল ১০৭১ কোম্পানি। এবার সেই সংখ্যাটি দ্বিগুণেরও বেশি। হিসাব বলছে, প্রতি বুথেই এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর জোয়ানদের উপস্থিতি থাকবে চোখে পড়ার মতো। মুর্শিদাবাদ, পূর্ব মেদিনীপুর এবং বীরভূমের মতো স্পর্শকাতর জেলাগুলোতে বাহিনীর ঘনঘটা হবে সবথেকে বেশি। কমিশনের এই কঠোর অবস্থানের মূল লক্ষ্য হলো—ভোটারদের মনে 'কনফিডেন্স বিল্ডিং' বা আত্মবিশ্বাস ফেরানো। কিন্তু প্রশ্ন হলো, গ্রামে গঞ্জে যখন জলপাই রঙের পোশাকের ভিড় বাড়ে, তখন সাধারণ ভোটাররা কি সত্যিই আশ্বস্ত হন, নাকি এক অজানা কুন্ঠা তাদের ঘিরে ধরে?
লগিস্টিক্স এবং স্থানীয় অর্থনীতির ওপর চাপ
এত বিশাল সংখ্যক বাহিনীকে রাখার ব্যবস্থা করা সরকারের কাছে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। স্কুল, কলেজ এবং সরকারি ভবনগুলোতে বাহিনীর ক্যাম্প তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিক পঠনপাঠন এবং জনজীবনে সাময়িক স্থবিরতা আসে। এছাড়া বাহিনীর খাওয়া-দাওয়া এবং যাতায়াতের জন্য যে বিশাল খরচ, তার একটা বড় অংশ শেষ পর্যন্ত করদাতাদের পকেট থেকেই যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল পরিমাণ বাহিনী মোতায়েন করে কমিশন বার্তা দিতে চাইছে যে, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর তাদের বিন্দুমাত্র ভরসা নেই।
উপসংহার
গণতন্ত্রের উৎসবে মানুষের অংশগ্রহণই শেষ কথা। ২৪০৭ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করে নির্বাচন কমিশন হয়তো বাহ্যিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবে, কিন্তু মানুষের মনের ভয় দূর করা কেবল বুলেটের কাজ নয়। একটি সুস্থ ও অবাধ নির্বাচনের জন্য বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজন রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা এবং নিরপেক্ষ প্রশাসনের সহযোগিতা। শেষ পর্যন্ত এই বিশাল বাহিনী মোতায়েন সার্থক হয় কি না, তা সময়ই বলবে।
