Politics

স্বাক্ষর জালিয়াতি তদন্তে CID, ১ জুন হাজিরা দেবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

By WaveINO Newsroom May 30, 2026
স্বাক্ষর জালিয়াতি তদন্তে CID, ১ জুন হাজিরা দেবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

রাজ্যের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে ফের একবার বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করে স্বাক্ষর জালিয়াতি তদন্তে CID সক্রিয় হয়ে উঠেছে। একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিতে স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার সূত্র ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিশ পাঠিয়েছে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা। আগামী ১ জুন তাঁকে কলকাতার আলিপুরের সিআইডি সদর দফতর, অর্থাৎ ভবানী ভবনে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই হাই-প্রোফাইল মামলার খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, একটি নির্দিষ্ট সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক নথিতে ভুয়ো সই ব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে এবং মূল চক্রীদের চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়ান রেকর্ড করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।

তদন্তের প্রেক্ষাপট ও সিআইডির পদক্ষেপ

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই একটি নির্দিষ্ট নথির সত্যতা এবং তার ওপর থাকা স্বাক্ষর নিয়ে বিতর্ক চলছিল। অভিযোগ ওঠে, কোনো বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিতে বা প্রশাসনিক স্তরে বিভ্রান্তি তৈরি করতে উচ্চপদস্থ কোনো ব্যক্তিত্বের স্বাক্ষর হুবহু নকল বা জাল করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার পর এই জালিয়াতির স্পষ্ট প্রমাণ মেলে।

এরপরই ঘটনার তদন্তভার সম্পূর্ণভাবে নিজেদের হাতে নেয় রাজ্য গোয়েন্দা শাখা (CID)। বিভিন্ন সূত্র মারফত তথ্য সংগ্রহের পর, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত পারিপার্শ্বিক সূত্র এবং তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১ জুনের এই হাজিরার দিনটিতে সিআইডির বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) তাঁকে একগুচ্ছ প্রশ্নের মুখোমুখি করতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

"আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। তদন্তের স্বার্থে এবং সত্য উদঘাটনে যেকোনো সংস্থাকে সহযোগিতা করতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত। তবে এই তদন্ত যেন কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রূপ না নেয়।"

সিআইডি বনাম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব: সাম্প্রতিক আইনি গতিপ্রকৃতি

পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে গোয়েন্দা সংস্থা বা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তলব নতুন কিছু নয়। তবে রাজ্য সিআইডি-র এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

তদন্তের পর্যায়সম্ভাব্য প্রক্রিয়ারাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
প্রাথমিক অভিযোগস্বাক্ষর সম্বলিত বিতর্কিত নথি উদ্ধার ও ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো।প্রশাসনিক স্তরে জালিয়াতির আশঙ্কা বৃদ্ধি।
গোয়েন্দা তৎপরতাসিআইডি-র বিশেষ দল গঠন এবং নথি যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন।রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনার সূত্রপাত।
আইনি নোটিশ প্রেরণCrPC-র নির্দিষ্ট ধারায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১ জুন হাজিরার সমন।আইনি পরামর্শদাতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক।
ভবানী ভবনে হাজিরাজিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মূল নথি এবং স্বাক্ষরের উৎস সন্ধানের চেষ্টা।আগামী দিনে মামলার গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে সাহায্য করবে।

রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ

১ জুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিআইডি দফতরে হাজিরার নির্দেশ আসতেই তৃণমূল শিবিরের অন্দরে আইনি তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ আইনি পরামর্শদাতারা ইতিমধ্যেই এই নোটিশের বয়ান খতিয়ে দেখছেন। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়াকে সম্মান জানিয়ে এবং তদন্তের স্বার্থে সবরকম সহযোগিতা করা হবে। তবে এর পেছনে কোনো সুপ্ত রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দলকে নিশানা করতে ছাড়ছে না। তাদের দাবি, দুর্নীতি এবং জালিয়াতির শিকড় কতটা গভীরে, তা এই তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে। তবে সমস্ত রাজনৈতিক তরজার ঊর্ধ্বে গিয়ে এখন সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের নজর আটকে রয়েছে আগামী ১ জুনের দিকে। সেদিন ভবানী ভবনে জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্ত কোন মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।