Politics

বাংলায় নির্বাচন কমিশনের কড়া বার্তা: ১৭০ থানার OC-কে সরাল নির্বাচন কমিশন?

By WaveINO Newsroom Mar 30, 2026
বাংলায় নির্বাচন কমিশনের কড়া বার্তা: ১৭০ থানার OC-কে সরাল নির্বাচন কমিশন?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ বাড়ছে বাংলায়। আর সেই আবহে ফের একবার কঠোর মনোভাব নিল নির্বাচন কমিশন। ভোট শুরুর ঠিক আগে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনে আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে ১৭০টিরও বেশি থানার অফিসার-ইন-চার্জ (OC) ও ইন্সপেক্টর-ইন-চার্জ (IC)-কে বদলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের এই পদক্ষেপকে নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।


রদবদলের নেপথ্যে কী কারণ?

নির্বাচন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য হলো ভোটারদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করা এবং কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব কমানো। কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী, যে সমস্ত পুলিশ আধিকারিক দীর্ঘ সময় ধরে একই থানায় কর্মরত বা যাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে, তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বাংলার স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই গণ-বদলির সিদ্ধান্ত।


কোন কোন থানা এই তালিকায় রয়েছ ?

কমিশনের এই বদলির তালিকায় কলকাতার ৩১টি থানা এবং রাজ্যের অন্যান্য জেলাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ও সি-রা রয়েছেন। বিশেষ করে ভিভিআইপি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিভবানীপুর এবং অত্যন্ত স্পর্শকাতর নন্দীগ্রামের মতো থানাগুলোতেও নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের বসানো হচ্ছে। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ— কোচবিহার, মুর্শিদাবাদ, দুই ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলাগুলোতে ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে।

প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয় :-

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। ইতিমধ্যেই বদলি হওয়া অফিসারদের জায়গায় নতুন কর্মকর্তাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে এবং তাদের অবিলম্বে দায়িত্ব গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এই সিদ্ধান্তকে 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে সমালোচনা করলেও, বিরোধী দলগুলো এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছ


নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঠিক ব্যবহার এবং নিরপেক্ষ পুলিশি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই এই রদবদল। ভোট প্রক্রিয়া চলাকালীন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি হলে সংশ্লিষ্ট থানার নতুন আধিকারিকদের সরাসরি জবাবদিহি করতে হবে।